নিজস্ব প্রতিবেদনঃ-সাংবাদিকতা একটি পবিত্র পেশা। এই পেশার মূল ভিত্তি সত্য, ন্যায় এবং জনস্বার্থ। একটি সংবাদপত্র শুধু খবর পরিবেশন করে না; এটি সমাজের বিবেক, রাষ্ট্রের দর্পণ এবং মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক। কিন্তু যখন কোনো সংবাদমাধ্যম সেই বিশ্বাসকে অগ্রাহ্য করে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে, তখন তা শুধু ব্যক্তি বা সংগঠনের ক্ষতি করে না—বরং পুরো সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সম্প্রতি সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ-এর বিরুদ্ধে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদকে ঘিরে এমনই একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটির সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার-এর সম্পাদনায় এবং কক্সবাজার জেলা প্রতিবেদক মোঃ জসিম উদ্দিন-এর দেওয়া তথ্যে গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে এমন কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সংগঠনটির সম্মান ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।নপ্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “কয়লা দুইলে ও ময়লা যায় না, এস.পি. আপেলের” একজন অতিরিক্ত ডিআইজি কে এসপি আপেল বলে সংবাদ প্রচার করা সম্পূর্ণ একটি মানহানিকর। এবং এই প্রতিবেদনে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি তাদেরকে একটি বিশেষ প্রভাবশালী মহলের “লালিত-পালিত বাহিনী” হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।
বাস্তবতা হচ্ছে, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির সদস্যরা সমাজে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় এই সংগঠন বহু বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোনো মামলা নেই। অথচ সংবাদে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তারা মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ধরনের অভিযোগ শুধু ব্যক্তি নয়, একটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের সম্মান নষ্ট করার শামিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেবেকা সুলতানা রেখা চৌধুরী-এর পক্ষে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী সাইফুদ্দীন ছিদ্দিকী সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৭ ও ২৮ ধারা এবং দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারার আওতায় অপরাধ করেছেন। লিগ্যাল নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার স্বপক্ষে ৭ দিনের মধ্যে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনাকে ঘিরে সাংবাদিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো—সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং সত্যতা নিশ্চিত করা। কিন্তু কোনো সংগঠন বা ব্যক্তিকে নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে যদি যথাযথ যাচাই-বাছাই না করা হয়, তবে তা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিন্তু সেই স্বাধীনতা কখনোই কারও সম্মান নষ্ট করার অধিকার দেয় না। সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি রয়েছে দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা। একজন সাংবাদিকের কলম যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারে, তেমনি সেই কলম যদি ভুল পথে ব্যবহৃত হয়, তবে তা অন্যায়ের হাতিয়ারেও পরিণত হতে পারে। সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সাংবাদিকতার নামে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে হেয় করা শুধু অনৈতিকই নয়, বরং এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যও লজ্জাজনক। তাই তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনে আইনি প্রতিকার পাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সত্যের শক্তি সবসময় মিথ্যার চেয়ে বড়। ইতিহাস সাক্ষী, অপপ্রচার সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদও বিশ্বাস করে—সত্যের পথেই তাদের অবস্থান এবং সেই পথেই তারা এগিয়ে যাবে।
গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে সংবাদপত্রকে অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ একটি সংবাদ যখন ছাপা হয়, তখন তা শুধু কাগজে লেখা শব্দ নয়; তা মানুষের বিশ্বাসের অংশ হয়ে যায়। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সততা, নৈতিকতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা সাংবাদিকতার জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—এই ঘটনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম আরও সতর্ক হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করে সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখবে।