মো: আব্বাস উদ্দিন:- চট্টগ্রাম মধ্যম পতেঙ্গা কাটগড় মাইজপাড়া এলাকায় সড়কের পাশে একটি কারখানায় অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্যামিকেল মিশ্রিত আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। এইচ আর ফুড পার্ক আইসক্রিম” নামে পরিচিত ওই কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম চট্টগ্রাম সহ পর্যটন এলাকা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্রি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সনদ, এইচ আর ফুড নামে নিবন্ধন, ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্রসহ কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন নেই।
স্থানীয়রা জানান, কারখানাটিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও ট্রেগুলো জংধরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণ নেই। এছাড়া উৎপাদনে বিভিন্ন ক্যামিকেল রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ—বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন বলেন, “আইসক্রিমে ক্যামিকেল স্যাকারিন বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।” সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী আইসক্রিমে এ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ।
কারখানার মালিক মো: জামালের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। তবে আমার সাথে বি এস টিআইর অফিসের লোকদের সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে, এবং তাদের কে আমি প্রতি মাসে টাকা পাঠাই। এদিকে, এ ধরনের কার্যক্রম খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর পরিপন্থী। এসব আইনের আওতায় জরিমানা, কারাদণ্ড এবং প্রতিষ্ঠান সিলগালার মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। চট্টগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এর আগেও ২০২৪ সালের মে মাসের ৬ তারিখ সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহম্মেদ, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ইয়াছিনুল হক চৌধুরী অভিযানে গিয়ে সতর্ক করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।