আজ
|| ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
থার্টি ফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ চার স্তরের নিরাপত্তা, আপেল মাহমুদ
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
মো.সেলিম উদ্দিন খাঁন:-থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে কক্সবাজারে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে জেলা শহরের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন ও সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজার শহরসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট, টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্ট নাইটের কোনো আয়োজন নেই। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে সৈকতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে আসছেন। ছুটির দিনে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, কক্সবাজারের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ নজরদারি রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহরে বর্তমানে ২টি মোবাইল টিম, ৭টি টহল টিম ও ৪টি মোটরসাইকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে। কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রোবায়েত হোসেন বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। শহরে প্রবেশ ও বের হওয়া প্রতিটি গাড়ি নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রামু ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে। সড়ক পথে আগত পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে সড়কে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সৈকত, হোটেল জোন, পর্যটন স্পট ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। জেলার হোটেলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারকা মানের হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ খালি নেই। ছোট ও মাঝারি হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজগুলোর বেশির ভাগ কক্ষও ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজার জেলায় পাঁচ শতাধিক হোটেল মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত সাত-আট বছর ধরে সৈকতের উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্ট নাইটের আয়োজন হচ্ছে না। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে হোটেল ও রিসোর্টগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে বিভিন্ন আয়োজন করবে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে।
Copyright © 2026 আলোচিত প্রতিদিন. All rights reserved.