আজ
|| ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
দলিল-খতিয়ান আছে, দখল নেই—তবুও কি মালিকানা পাবেন? BDS রেকর্ডে ভূমি মালিকদের করণীয় কি?
প্রকাশের তারিখঃ ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ।
ভূমি মালিকদের জন্য সুখবর এনেছে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস)। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া এই নতুন রেকর্ড ব্যবস্থা এখন দেশের সর্বশেষ ও সবচেয়ে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন— যাদের দলিল-খতিয়ান আছে কিন্তু জমি বেদখল, তারা কি বিডিএস রেকর্ডে মালিকানা পাবেন?
দখল হারালে করণীয় :
রেকর্ডে আর ভুল থাকবে না
সরকার জানিয়েছে, বিডিএস রেকর্ডে আর কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকবে না। যারা প্রকৃত মালিক— কেবল তাদেরই নামে রেকর্ড হবে। তবে, শুধু দলিল থাকলেই হবে না; জমির দখল থাকতে হবে এবং মালিকানার সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। যারা জবর দখল করে রেখেছে, কিন্তু বৈধ দলিল দেখাতে পারবে না, তাদের ‘অবৈধ দখলকারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
ভূমি মালিকদের জন্য সুখবর এনেছে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস)। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া এই নতুন রেকর্ড ব্যবস্থা এখন দেশের সর্বশেষ ও সবচেয়ে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন— যাদের দলিল-খতিয়ান আছে কিন্তু জমি বেদখল, তারা কি বিডিএস রেকর্ডে মালিকানা পাবেন?
রেকর্ডে আর ভুল থাকবে না
সরকার জানিয়েছে, বিডিএস রেকর্ডে আর কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকবে না। যারা প্রকৃত মালিক— কেবল তাদেরই নামে রেকর্ড হবে। তবে, শুধু দলিল থাকলেই হবে না; জমির দখল থাকতে হবে এবং মালিকানার সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। যারা জবর দখল করে রেখেছে, কিন্তু বৈধ দলিল দেখাতে পারবে না, তাদের ‘অবৈধ দখলকারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
দখল হারালে করণীয়
যদি আপনার জমি সম্প্রতি (দুই মাসের মধ্যে) বেদখল হয়ে থাকে, তাহলে আপনি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করে জমির দখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করবেন।
তবে যদি দুই মাস পেরিয়ে যায় এবং ১২ বছরের মধ্যে জমি বেদখল থাকে, তাহলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী মামলা করতে হবে। আদালত যদি আপনার মালিকানা বৈধ বলে প্রমাণ পান, তাহলে তিনি অবৈধ দখলকারীর কাছ থেকে জমি উদ্ধার করে আপনাকে ফেরত দেবেন।
সম্প্রতি পাস হওয়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুসারে, আপনি চাইলে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ৭ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
এই আইনে মামলার নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময় ৪৫ দিন, অর্থাৎ দেড় মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হবে।
এই প্রক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট দখলকারীর কাছ থেকে মালিকানার প্রমাণ চাইবেন। যদি সে তা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে অবৈধ দখলকারী হিসেবে গণ্য করে জমি বৈধ মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
১২ বছরের বেশি হলে কী হবে
যদি জমি ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে অন্যের দখলে থাকে এবং দখলকারী আদালত থেকে তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী কোনো ডিগ্রি (রায়) নিয়ে থাকে, তাহলে সেই জমি আপনি আর ফেরত পাবেন না। সে ক্ষেত্রে আপনার মামলা খারিজ হয়ে যাবে এবং দখলকারী বৈধ মালিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিডিএস রেকর্ডে মালিকানা পাওয়ার শর্ত:
আপনি বিডিএস রেকর্ডে নিজের নামে জমি রেকর্ড করতে চাইলে—
আপনার দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য মালিকানার প্রমাণপত্র থাকতে হবে।
জমির বাস্তব দখল আপনাকে উদ্ধার করতে হবে।
যদি বেদখল অবস্থায় থাকে, তবে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে দখল পুনরুদ্ধার করতে হবে।
বিডিএস সার্ভের কর্মকর্তারা জমির মালিকানা যাচাইয়ের পাশাপাশি দখলের সত্যতাও পরীক্ষা করবেন। তাই কেবল কাগজে মালিকানা থাকলেই হবে না— জমির দখল নিশ্চিত করেই আপনি বিডিএস রেকর্ডে আপনার নামে রেকর্ড করতে পারবেন।
সংক্ষেপে:
যাদের দলিল-খতিয়ান আছে কিন্তু জমি বেদখল, তারা দখল পুনরুদ্ধারের আইনি পদক্ষেপ না নিলে বিডিএস রেকর্ডে মালিকানা পাবেন না। তবে সঠিক কাগজপত্র ও দখল পুনরুদ্ধারের পর, তারা সম্পূর্ণ বৈধ মালিক হিসেবে ডিজিটাল রেকর্ডে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
অর্থাৎ, এখন আর দখল থাকলেই মালিকানা নয়—প্রমাণ ও দখল দুটোই জরুরি।
Copyright © 2026 আলোচিত প্রতিদিন. All rights reserved.